কমছে ঢাবির জায়গা, বাড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী…..

0
47

কমছে ঢাবির জায়গা, বাড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেছেন, সব স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিলেও বর্তমানে সংকটের মধ্যে দিয়ে পার হতে হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে। এমনকি দিন দিন সংকটগুলো ক্রমাগতভাবে আরো ঘনীভূত হচ্ছে। এ কারণে ১০০ বছরেও পূর্ণাঙ্গ হতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিসিএস ৩৬তম ব্যাচের ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিনব্যাপী এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে এবং বিসিএস ৩৬তম ব্যাচে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ছিলেন রেডিয়্যান্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, হামস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জি. মো. শফিকুর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ৩৬তম ব্যাচে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আবদুল্লাহ আল মামুন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আমিনুল ইসলাম জিসান ও জাবেদ হায়দার, পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত গোলাম রুহানী এবং ট্যাক্স ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম।

মাকসুদ কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটটি হলো এ রকম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে ধাপে অগ্রসর হয়ে গেছে, আমরা সেভাবে এখনও এগোতে পারিনি অথবা পিছিয়ে গেছি। এর পেছনে একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর যে বোঝা সেটা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। আমরা এখন ৩৭-৩৮ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে ২৩০-২৪০ একর জায়গায় অবস্থান করছি। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় এর আয়তন ছিলো ৬৫০ একর। জায়গা সংকুচিত হতে হতে এটা এখন ২৩০-২৪০ একরে এসে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যাও দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। তবে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে থাকার জায়গা বাড়ছে না। এর ফলে সংকটগুলো ক্রমাগতভাবে ঘনীভূত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলের তথ্য-উপাত্ত চাওয়ার পরে এখন পর্যন্ত আমরা তা পাইনি। তাই এই অটোমেশন প্রক্রিয়াটি আমরা এখনো শুরু করতে পারিনি। অনেক জায়গায় সফল হলেও নেতৃত্বের জায়গায় আমরা এখনো সফল হইনি। এ অটোমেশন প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।

তিনি আরো বলেন, জাতি গঠনের ক্ষেত্রে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অবদান হলো ৮২ শতাংশ। অনেক নেতা, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্ম দিয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ২৩ জন নোবেল বিজয়ীর জন্ম দিলেও জাতি গঠনকারী মহান নেতার জন্ম দিতে পারেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সে নেতার জন্ম দিয়েছে।

 

বিসিএস ৩৬তম ব্যাচের ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে এখন তোমরা বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছো। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করার মাধ্যমে এখান থেকে তোমরা যে মূল্যবোধ ধারণ করেছ তোমাদের সেবা দিয়ে সমগ্র জাতির সামনে তা উপস্থাপন করবে। কারণ আমাদের প্রত্যেককে এ দেশ এবং জাতি সেবা দিয়েছে।

 

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সুপারিশপ্রাপ্ত বিসিএস ক্যাডারদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হচ্ছে পরবর্তী জীবনের বীজ বপনের সময় এবং এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুপ্রেরণা যোগাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও ভূমিকা রেখে আসছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তোমাদের অনেক ক্ষমতা, মর্যাদা ও দায়িত্ব আসবে যা তোমরা মূল্যবোধের মাধ্যমে ব্যবহার করবে এবং মানুষের মঙ্গলের জন্য সব সময় কাজ করবে।

LEAVE A REPLY