মিল মালিকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয়েই রডের দাম বেড়েছে…..

0
39
মিল মালিকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয়েই রডের দাম বেড়েছে
দেশে হঠাৎ করে রডের দাম বাড়ার জন্য নির্মাণখাতের উদ্যোক্তরা অসাধু ব্যবসায়ীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেও রড উৎপাদনকারী মিল মালিকরা তা অস্বীকার করেছেন। তারা নির্মাণশিল্পের প্রয়োজনীয় এ উপকরণটির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন।
সরকার কিছু নীতিগত উদ্যোগ নিলে রডের দাম (প্রতি টান ৬৩ হাজার টাকা) টনপ্রতি অন্তত পাঁচ হাজার টাকা কমানো সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।
নির্মাণখাতের উদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি (বিএসিআই) সম্প্রতি অভিযোগ করেছে, রড উৎপাদনকারীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একদিনেই রডের দাম টনপ্রতি নয় হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি অর্থবছরেই রডের দাম প্রতি টনে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা বেড়েছে বলেও তথ্য দেয় বিএসিআই।
গত বৃহস্পতিবার বিএসিআই সভাপতি মুনীর উদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২৭ মার্চ সকালে টনপ্রতি এমএস রডের দাম ছিল ৬৩ হাজার টাকা আর ওইদিন বিকালে টনপ্রতি রডের দাম দাঁড়ায় ৭২ হাজার টাকা। এতেই প্রমাণ হয়, একটি চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রডের দাম বাড়াচ্ছে।
রড উৎপাদনকারীদের দুটি সংগঠন বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম ওই বাড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মুহম্মাদ শহিদউল্লাহ, আয়োজক অ্যাসোসিয়েশনর পক্ষে মোনয়ার হোসেন, সুমন চৌধুরী, মোহম্মাদ শাজাহান, জাকিরুল চৌধুরী প্রমুখ।
বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে রড উৎপাদনকারীরা প্রতিযোগিতা করে বাজারে টিকে আছে। দৈনিক ৬০ লাখ টন রডের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ক্ষমতা ৯০ লাখ। এ ব্যবসায় যুক্ত আছে আড়াইশ প্রতিষ্ঠান। সুতরাং এখানে সিন্ডিকেট করা সম্ভব নয়। মূলত গত এক বছরে প্রতি টন রডে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে অন্তত ১৮ হাজার টাকা। সেই কারণেই দাম বেড়েছে।
খাতভিত্তিক ব্যয়বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল বা স্ক্রাপের দাম বেড়েছে প্রতি টনে নয় হাজার টাকা বা ৩৭ শতাংশ।
কেমিক্যালের (স্পঞ্জ আয়রন ও ফেরো অ্যালয়েজ) দাম বাড়ার কারণে প্রতি টনে দাম বেড়েছে প্রায় ১৯০০ টাকা। পরিবহন খরচ ৩০০ টাকা, বন্দর ব্যয় ৬৮৮ টাকা বেড়েছে। এভাবে গ্যাস, বিদ্যুৎ, ব্যাংক ঋণে সুদহার বৃদ্ধিসহ সবমিলিয়ে প্রতি টনে ১৮ হাজার ৪১৯ টাকা ব্যয় বেড়েছে বলে তিনি জানান।
বিগত এক বছরে রডের দাম ৫৪ হাজার থেকে বেড়ে ৭০ হাজার টাকা হয়েছে জানিয়ে আনোয়ার গ্রুপের এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সেই হিসাবে দাম বেড়েছে মাত্র ১৬ হাজার টাকা।
অবশ্য এদিন বাজারে বিভিন্ন গ্রেডের রড প্রতি টন ৬৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সিএসআরএম স্টিলের মালিক শাহজাহান, এসএসআরএম স্টিলের মালিক মাসুদ ও মেট্রোসেম গ্রুপের মালিক শহিদুল্লাহ। তবে কিছুদিন আগে রডের দাম ৭০ হাজার টাকার চেয়েও বেশি হয়েছিল বলে তারা স্বীকার করেন।
দাম এখন কীভাবে কমে ৬৩ হাজারে নামল জানতে চাইলে মনোয়ার হোসেন বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের অনুরোধ ও ব্যয় সংকোচনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসে তারা দাম কমিয়েছেন।
রডের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং দাম বর্তমান বাজারের চেয়েও টনপ্রতি আরও অন্তত পাঁচ হাজার টাকা কমাতে সরকারকে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এর মধ্যে রয়েছে, এক্সেল লোড আদেশ শিথিল করা, বন্দরের অফডকে স্টিলের কাঁচামাল না পাঠিয়ে সরাসরি খালাসের ব্যবস্থা করা, কাঁচামালের ওপর আরোপিত সিটি ১৫০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করা, এআইটি ৮০০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা করা। ব্যাংকঋণের সুদহার কামানো এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন করা।

LEAVE A REPLY